বাংলাদেশ , বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
সর্বাধিক পঠিত

চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ সংকট: উৎপাদন ঘাটতিতে লোডশেডিং বেড়ে জনদুর্ভোগ চরমে

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে। জ্বালানি ঘাটতি ও একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় উৎপাদন কমে গেছে। এতে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ফাঁক তৈরি হয়েছে। ফলে শহরজুড়ে লোডশেডিং বেড়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৫ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১,৪৩২ মেগাওয়াটের বেশি। কিন্তু সরবরাহ সেই তুলনায় কম ছিল। আবার সকাল ১১টায় চাহিদা ছিল ১,৩৮৪ মেগাওয়াট, অথচ সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ১,০৯৬ মেগাওয়াটে। ফলে দিনে বিভিন্ন সময়ে বিদ্যুৎ ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

বিশেষ করে চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ সংকট বাড়ার বড় কারণ হলো জ্বালানি সমস্যা। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় অনেক গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের ২৮টি কেন্দ্রের মধ্যে অন্তত ৬টি এখনো চালু নেই।

কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়েকটি ইউনিট বন্ধ রয়েছে। এছাড়া রাউজানের দুটি বড় কেন্দ্র এবং জুডিয়াক কেন্দ্র উৎপাদনে নেই। এতে সামগ্রিক উৎপাদন অনেক কমে গেছে।

যেসব কেন্দ্র চালু আছে, সেগুলোও পূর্ণ ক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। উদাহরণ হিসেবে এনলিমা বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সকাল থেকে সন্ধ্যায় অনেক কমে গেছে। আনোয়ারা, বিআর পাওয়ার ও এনার্জিপ্যাকসহ আরও কয়েকটি কেন্দ্র আংশিক সক্ষমতায় চলছে।

অন্যদিকে মাতারবাড়ি, শিকলবাহা ও বাঁশখালীর কিছু কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও তা চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়।

এই পরিস্থিতিতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। চকবাজার, পাঁচলাইশ, আগ্রাবাদ, হালিশহরসহ অনেক এলাকায় দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। একবার বিদ্যুৎ গেলে তা ফিরতে সময় লাগছে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা।

গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষের দৈনন্দিন জীবন কঠিন হয়ে উঠেছে। পানি সরবরাহেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে। শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামনে গরম আরও বাড়বে। এতে বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়বে। কিন্তু জ্বালানি সংকট সমাধান না হলে চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ সংকট আরও বাড়তে পারে।

সরকার ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এবং বন্ধ কেন্দ্র চালু না হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক সম্পর্কিত তথ্য
আপডেটের সময় : ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
২১ সময় দৃশ্য

চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ সংকট: উৎপাদন ঘাটতিতে লোডশেডিং বেড়ে জনদুর্ভোগ চরমে

আপডেটের সময় : ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে। জ্বালানি ঘাটতি ও একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় উৎপাদন কমে গেছে। এতে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ফাঁক তৈরি হয়েছে। ফলে শহরজুড়ে লোডশেডিং বেড়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৫ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১,৪৩২ মেগাওয়াটের বেশি। কিন্তু সরবরাহ সেই তুলনায় কম ছিল। আবার সকাল ১১টায় চাহিদা ছিল ১,৩৮৪ মেগাওয়াট, অথচ সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ১,০৯৬ মেগাওয়াটে। ফলে দিনে বিভিন্ন সময়ে বিদ্যুৎ ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

বিশেষ করে চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ সংকট বাড়ার বড় কারণ হলো জ্বালানি সমস্যা। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় অনেক গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের ২৮টি কেন্দ্রের মধ্যে অন্তত ৬টি এখনো চালু নেই।

কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়েকটি ইউনিট বন্ধ রয়েছে। এছাড়া রাউজানের দুটি বড় কেন্দ্র এবং জুডিয়াক কেন্দ্র উৎপাদনে নেই। এতে সামগ্রিক উৎপাদন অনেক কমে গেছে।

যেসব কেন্দ্র চালু আছে, সেগুলোও পূর্ণ ক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। উদাহরণ হিসেবে এনলিমা বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সকাল থেকে সন্ধ্যায় অনেক কমে গেছে। আনোয়ারা, বিআর পাওয়ার ও এনার্জিপ্যাকসহ আরও কয়েকটি কেন্দ্র আংশিক সক্ষমতায় চলছে।

অন্যদিকে মাতারবাড়ি, শিকলবাহা ও বাঁশখালীর কিছু কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও তা চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়।

এই পরিস্থিতিতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। চকবাজার, পাঁচলাইশ, আগ্রাবাদ, হালিশহরসহ অনেক এলাকায় দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। একবার বিদ্যুৎ গেলে তা ফিরতে সময় লাগছে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা।

গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষের দৈনন্দিন জীবন কঠিন হয়ে উঠেছে। পানি সরবরাহেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে। শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামনে গরম আরও বাড়বে। এতে বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়বে। কিন্তু জ্বালানি সংকট সমাধান না হলে চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ সংকট আরও বাড়তে পারে।

সরকার ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এবং বন্ধ কেন্দ্র চালু না হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।