নবীগঞ্জ কুর্শি ক্লিনিকে অনিয়ম, ভোগান্তিতে জনতা

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের নবীগঞ্জ কুর্শি কমিউনিটি ক্লিনিক নিয়ে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ক্লিনিকটি দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কাজী মত্তকীর মিয়া নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেন না। গত দুই মাস ধরে ক্লিনিকটি অধিকাংশ সময় বন্ধ ছিল বলে জানান এলাকাবাসী। রবিবার (২৯ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় লোকজন ওষুধ নিতে গিয়ে ক্লিনিক বন্ধ পান। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পরও কাউকে না পেয়ে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানান।
পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সহকারী এসে ক্লিনিক খুলেন। এ সময় উপস্থিত লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, দুই বছর ধরে তিনি নানা ধরনের কমিউনিটি ক্লিনিক অনিয়ম করে আসছেন। দরিদ্র রোগীদের কাছ থেকে ২০ টাকা নিয়ে ওষুধ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
এছাড়া অনেক সময় রোগীদের বলা হয় ওষুধ নেই, কিন্তু পরে দেখা যায় ক্লিনিকের ভেতরে ওষুধ মজুদ রয়েছে। এমনকি কিছু ওষুধ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এসব ঘটনায় স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ক্লিনিকের সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ করেন এবং ওই সহকারীর অপসারণ দাবি করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শন ইনচার্জ বিপ্লব দাশ জানান, এর আগেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
সাংবাদিকরা ওষুধ সরবরাহ ও বিতরণের তালিকা দেখতে চাইলে সংশ্লিষ্ট সহকারী তা দেখাতে ব্যর্থ হন। এতে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।
স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং নতুন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, এভাবে চলতে থাকলে গ্রামের মানুষ মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হবে।








