মিয়ারহাট বৈশাখী মেলা ২০২৬: ঐতিহ্য ও আনন্দে মুখর বড়উঠান ইউনিয়ন

এম এস শ্রাবণ মাহমুদ, স্টাফ রিপোর্টার
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী মিয়ারহাট বৈশাখী মেলা ২০২৬ সালে আবারও জমে উঠেছে উৎসবের আমেজে। বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ মেলা উপলক্ষে আয়োজিত এই মেলা স্থানীয় মানুষের কাছে শুধু বিনোদনের স্থান নয়, বরং এটি একটি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মিলনমেলা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো এই মেলা প্রতি বছরই জাঁকজমকভাবে অনুষ্ঠিত হয়। কর্মব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি দূর করতে মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে ভিড় জমায়। দূর-দূরান্তে থাকা আত্মীয়-স্বজনও এই সময় বাড়িতে ফিরে আসে, ফলে গ্রামজুড়ে তৈরি হয় আনন্দঘন পরিবেশ।
মেলার বিশেষ আকর্ষণ হলো পারিবারিক মিলনমেলা। বিবাহিত মেয়েরা বাবার বাড়িতে ফিরে এসে এই মেলার আনন্দ উপভোগ করে। ঘরে ঘরে তৈরি হয় মুড়ি, মুড়কি, বিন্নি ধানের খই এবং নানা ধরনের পিঠাপুলি। এতে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।
মেলায় রয়েছে মাটির তৈরি জিনিসপত্র, বাঁশ ও বেতের পণ্য, খেলনা, মিষ্টি, জিলাপি, বাতাসা ও বিভিন্ন ধরনের খাবারের দোকান। শিশুদের ভিড় সবচেয়ে বেশি দেখা যায় খেলনা ও মিষ্টির দোকানে। চারদিকে বাজে ‘পে পো’ শব্দ, যা মেলার প্রাণবন্ত পরিবেশকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই মেলা জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য উন্মুক্ত। ছোট-বড় সবাই এখানে এসে আনন্দে মেতে ওঠে। মানুষের মধ্যে গড়ে ওঠে এক অদৃশ্য ভ্রাতৃত্ববোধ, যা সামাজিক বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করে।
সব মিলিয়ে, মিয়ারহাট বৈশাখী মেলা শুধু একটি মেলা নয়—এটি বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ভালোবাসার প্রতীক। প্রতি বছর এই মেলা নতুন করে মানুষের মনে আনন্দ ও ঐক্যের বার্তা পৌঁছে দেয়।স শ্রাবণ মাহমুদ, স্টাফ রিপোর্টার








