আড়াইহাজারে গৃহবধূ হত্যা: ১৬ মাস পর প্রধান আসামি আটক

সোহান মিয়া, আড়াইহাজার উপজেলা প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে এক গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনা নতুন মোড় নিয়েছে। দীর্ঘ ১৬ মাস পর অপমৃত্যুর মামলা হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে শ্বাসরোধে হত্যার প্রমাণ পাওয়ার পর পুলিশ নতুন করে মামলা গ্রহণ করে এবং প্রধান আসামিকে আটক করেছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের বৈলারকান্দি এলাকার বাসিন্দা নাজমা আক্তার তার মেয়ে জিদনী আক্তার (২৩)-এর মৃত্যুকে হত্যা দাবি করে আটজনকে আসামি করেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন স্বামী সুমন মিয়া (৩২), তার মা রুপালী বেগম, বাবা আব্দুল হান্নান, দুই বোন সুমনা ও সিমা, আত্মীয়া রোকসানা আক্তার, সাকিব ও মাইনুল হক।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালের ৭ জুলাই পারিবারিকভাবে জিদনীর সঙ্গে সুমনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিকবার টাকা ও উপঢৌকন দেওয়ার পরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর রাতে আবারও পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সুমন মিয়া জিদনীর গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এ ঘটনায় অন্য আসামিরাও তাকে সহায়তা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে জিদনীকে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রথমে এই ঘটনাটি রহস্যজনক মৃত্যু হিসেবে মামলা নেওয়া হলেও পরিবার শুরু থেকেই হত্যা মামলা করার দাবি জানায়।
পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে শ্বাসরোধে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এরপর পুলিশ মামলাটি হত্যা হিসেবে পুনঃনথিভুক্ত করে।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে নতুন করে হত্যা মামলা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রধান আসামি সুমন মিয়াকে আটক করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে দোষীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক।








