বিদেশে চাকরির প্রলোভনে ১৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

মোঃ রাসেল আহমেদের নেত্রকোণা প্রতিনিধি।
নেত্রকোণার মদনে বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম খসরু পারভেজ ভূঁইয়া। মঙ্গলবার দিবাগত রাত প্রায় ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার বাদলা তানেশ্বর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আদালতের নির্দেশে দায়ের হওয়া মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে মদন থানার একটি বিশেষ দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন মদন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সালাউদ্দিন করিম। এ সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোঃ হাসানুর রহমান, এসআই শাকিব, পুলিশ কনস্টেবল আকরামসহ পুলিশের একটি দল অংশ নেয়। অভিযানে বাদলা পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরাও সহযোগিতা করেন।
মামলার বাদী মোহন মিয়া অভিযোগ করেন, বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এবং বৈধ আকামা ও কর্মসংস্থানের আশ্বাস দিয়ে অভিযুক্তরা তার কাছ থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ১৭ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকরি বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ব্যবস্থা না করে তাকে বিদেশে চরম দুর্ভোগের মধ্যে ফেলে রাখা হয়।
এজাহার অনুযায়ী, বিদেশে অবস্থানকালে মোহন মিয়া নানা ধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও মানবিক সংকটের মুখোমুখি হন। পরবর্তীতে আত্মীয়-স্বজনের সহায়তায় আরও অর্থ পাঠানোর পর তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। দেশে ফিরে অভিযুক্তদের কাছে অর্থ ফেরত এবং প্রতিশ্রুত সুবিধা বাস্তবায়নের দাবি জানালে তারা অর্থ গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করলেও টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালতের নির্দেশে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মদন থানায় মামলা রুজু করা হয়। মামলায় মোট তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার হলেও বাকি দুই আসামিকে আটক করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত খসরু পারভেজ ভূঁইয়াকে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
মদন থানার ওসি মোঃ সালাউদ্দিন করিম বলেন, আদালতের নির্দেশে দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত চলছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, মামলার বাদী প্রধান আসামির গ্রেপ্তারে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, বিদেশে চাকরির নামে প্রতারণার ঘটনা রোধে কঠোর নজরদারি ও আইন প্রয়োগ জরুরি হয়ে উঠেছে।








