বাংলাদেশ , শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
সর্বাধিক পঠিত

সাপে দংশনে ফ্রি এন্টিভেনাম সেবা দিচ্ছে বোদা হাসপাতাল

মোঃ শাহজাহান কবির প্রধান, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি:

পঞ্চগড়ের বোদা সদর হাসপাতালে সাপে দংশনের শিকার রোগীদের জন্য বিনামূল্যে এন্টিভেনাম ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম সফলভাবে চলমান রয়েছে। সাপে দংশনের পর দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এই সেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, মাননীয় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব ফরহাদ হোসেন আজাদের বিশেষ বরাদ্দে প্রায় এক বছর আগে বোদা সদর হাসপাতালে এন্টিভেনাম সরবরাহ ও চিকিৎসা কার্যক্রম চালু করা হয়। এরপর থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সাপে দংশনের রোগীরা এখানে চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফুল কবির জানান, সাপে দংশনের ঘটনা ঘটলে রোগীকে কোনোভাবেই ওঝা বা কবিরাজের কাছে না নিয়ে সরাসরি হাসপাতালে আনা উচিত। কারণ দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা গেলে প্রাণহানির ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়। তিনি বলেন, “বোদা সদর হাসপাতালে সাপে দংশনের রোগীদের সম্পূর্ণ ফ্রিতে এন্টিভেনাম ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। রোগীদের সাধারণত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়, যাতে শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায়।”

তবে হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধা না থাকায় জটিল রোগীদের চিকিৎসায় কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, রোগীর অবস্থা গুরুতর হলে তাকে দ্রুত ঠাকুরগাঁও অথবা রংপুরের উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে রেফার করতে হয়। হাসপাতালটিতে আইসিইউ সুবিধা চালু করা গেলে সাপে দংশনের রোগীদের চিকিৎসা আরও কার্যকর হবে এবং রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তিও কমবে।

এদিকে শুধু সাপে দংশনের চিকিৎসাই নয়, বোদা সদর হাসপাতালে কুকুর, বিড়াল ও শেয়ালের কামড়ের পর প্রয়োজনীয় টিকাও প্রদান করা হয়। ফলে এলাকার সাধারণ মানুষ জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে হাসপাতালটির ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে সাপের উপদ্রব বেড়ে যায়। তাই সাপে দংশনের ঘটনা ঘটলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ। সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে অনেক প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক সম্পর্কিত তথ্য
আপডেটের সময় : ০৮:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
১৭ সময় দৃশ্য

সাপে দংশনে ফ্রি এন্টিভেনাম সেবা দিচ্ছে বোদা হাসপাতাল

আপডেটের সময় : ০৮:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

মোঃ শাহজাহান কবির প্রধান, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি:

পঞ্চগড়ের বোদা সদর হাসপাতালে সাপে দংশনের শিকার রোগীদের জন্য বিনামূল্যে এন্টিভেনাম ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম সফলভাবে চলমান রয়েছে। সাপে দংশনের পর দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এই সেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, মাননীয় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব ফরহাদ হোসেন আজাদের বিশেষ বরাদ্দে প্রায় এক বছর আগে বোদা সদর হাসপাতালে এন্টিভেনাম সরবরাহ ও চিকিৎসা কার্যক্রম চালু করা হয়। এরপর থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সাপে দংশনের রোগীরা এখানে চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফুল কবির জানান, সাপে দংশনের ঘটনা ঘটলে রোগীকে কোনোভাবেই ওঝা বা কবিরাজের কাছে না নিয়ে সরাসরি হাসপাতালে আনা উচিত। কারণ দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা গেলে প্রাণহানির ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়। তিনি বলেন, “বোদা সদর হাসপাতালে সাপে দংশনের রোগীদের সম্পূর্ণ ফ্রিতে এন্টিভেনাম ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। রোগীদের সাধারণত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়, যাতে শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায়।”

তবে হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধা না থাকায় জটিল রোগীদের চিকিৎসায় কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, রোগীর অবস্থা গুরুতর হলে তাকে দ্রুত ঠাকুরগাঁও অথবা রংপুরের উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে রেফার করতে হয়। হাসপাতালটিতে আইসিইউ সুবিধা চালু করা গেলে সাপে দংশনের রোগীদের চিকিৎসা আরও কার্যকর হবে এবং রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তিও কমবে।

এদিকে শুধু সাপে দংশনের চিকিৎসাই নয়, বোদা সদর হাসপাতালে কুকুর, বিড়াল ও শেয়ালের কামড়ের পর প্রয়োজনীয় টিকাও প্রদান করা হয়। ফলে এলাকার সাধারণ মানুষ জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে হাসপাতালটির ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে সাপের উপদ্রব বেড়ে যায়। তাই সাপে দংশনের ঘটনা ঘটলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ। সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে অনেক প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।