নরসিংদীতে বিশেষ অভিযানে ৭৭৫ পিস ইয়াবাসহ ১০ জন গ্রেফতার

সাংবাদিক মাসুদ রানা বাবুল নরসিংদী
নরসিংদীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) একযোগে অভিযান পরিচালনা করছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ জন মাদক কারবারি এবং ৪ জন বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক হয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান-এর অংশ হিসেবে রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চলে দিনব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আবদুল্লাহ্-আল-ফারুকের নির্দেশনায় পরিচালিত এই অভিযানে বাঁশগাড়ী, পাড়াতলী ও শ্রীনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অন্যদিকে, মাদকের বিরুদ্ধে ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি দক্ষিণ) পৃথক অভিযান পরিচালনা করে। ডিবি দক্ষিণের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর এরশাদ উল্লাহর নেতৃত্বে কুড়েরপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ মোঃ আফজাল হোসেন (২৬) নামের এক মাদক কারবারি গ্রেফতার করা হয়।
এছাড়া রায়পুরার বটিয়ারা পূর্বপাড়া এলাকা থেকে ১১০ পিস ইয়াবাসহ মোঃ নজরুল ইসলাম (৫০) ও মোঃ আমির হোসেন (৫১) এবং খাকচক এলাকা থেকে ১০০ পিস ইয়াবাসহ মোঃ ইদ্রিস মিয়া (৩২)-কে আটক করা হয়। একই সময়ে মাধবদী থানার টাটা পাড়া এলাকা থেকে তিনটি মাদক মামলার আসামি মোঃ হারুন মিয়া (৪০)-কে ৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়। পলাশ থানা পুলিশও ১৫ পিস ইয়াবাসহ শহীদুল হাওলাদার (২৬) নামে এক যুবককে আটক করেছে।
পুলিশের তথ্যমতে, এসব অভিযানে মোট ৭৭৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের ধারাবাহিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
জেলার সচেতন মহল মনে করছে, চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের নিয়মিত অভিযান অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও নিরাপত্তাবোধ বৃদ্ধি করেছে। নরসিংদী জেলা পুলিশের এ ধরনের তৎপরতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।








