চাটখিলে জমি দখলের অভিযোগে আ.লীগ নেতা কালুর বিরুদ্ধে ভাঙচুর

মোঃ বেল্লাল হোসাইন নাঈম,স্টাফ রিপোর্টার
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে বসতবাড়ি ভাঙচুর, গাছপালা কেটে ফেলা এবং জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন কালুর বিরুদ্ধে। চাটখিলে জমি দখলের অভিযোগ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আইরিন সুলতানা (৩৪) চাটখিল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৫ নম্বর মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দুলালপুর গ্রামের বাসিন্দা আইরিন সুলতানা তার স্বামী মোর্শেদ আলম লিটনের পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধের মধ্যে রয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, একই এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় ওই সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১০ জুন ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে তাদের পৈত্রিক সম্পত্তিতে প্রবেশ করেন। এ সময় বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ গাছ কেটে ফেলা হয় এবং জমির মাটি অপসারণ করা হয়। এতে প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী।
শুধু তাই নয়, অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সম্পত্তির ওপর নতুন নির্মিত ভবনের দেয়ালও ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান আইরিন সুলতানা। তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযুক্তরা আইনের আশ্রয় নিলে হত্যা করে লাশ গুম করার মতো ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছে। এ কারণে পরিবারটি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তিনি আরও জানান, এর আগেও স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত মানা হয়নি এবং পুনরায় জমি দখলের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, মহিউদ্দিন কালুর বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নেওয়া হলে যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়া ভবনের ভিটা থেকে মাটি সরিয়ে নেওয়ার কারণে বাড়িটি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে এবং যে কোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে চাটখিল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশ ঘটনার সত্যতা যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিরসনে প্রশাসনের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন এলাকাবাসী।








