বাংলাদেশ , শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কক্সবাজার জেলা কমিটির অনুমোদন সন্ত্রাসী হামলায় আহত ফরহাদ হোসেন একমাস পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল নিউজ ক্লাবে আহ্বায়ক কমিটি গঠন সম্পন্ন পাটগ্রামে কৃষক গ্রুপ গঠন জোরদার, টেকসই কৃষি উন্নয়নে অগ্রযাত্রা আড়াইহাজারে পুলিশের অভিযানে কুখ্যাত ডাকাত খাইরুল গ্রেপ্তার আটক দোয়ারাবাজারে পশু জবাই প্রশিক্ষণ, চামড়া সংরক্ষণে বিশেষ নির্দেশনা চাঁপাইনবাবগঞ্জে এমপি মিজানের সঙ্গে সার ডিলারদের মতবিনিময় সভা গাইবান্ধায় ভিজিএফ চাল আটক, পরে রশিদ তৈরির অভিযোগ উঠেছে ঈদ উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে ১৩ পশুর হাটের ইজারা সম্পন্ন করেছে প্রশাসন চট্টগ্রামে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা: ২৫১ সিমকার্ড ও ৮ সিমবক্স জব্দ
সর্বাধিক পঠিত
বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কক্সবাজার জেলা কমিটির অনুমোদন সন্ত্রাসী হামলায় আহত ফরহাদ হোসেন একমাস পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল নিউজ ক্লাবে আহ্বায়ক কমিটি গঠন সম্পন্ন পাটগ্রামে কৃষক গ্রুপ গঠন জোরদার, টেকসই কৃষি উন্নয়নে অগ্রযাত্রা আড়াইহাজারে পুলিশের অভিযানে কুখ্যাত ডাকাত খাইরুল গ্রেপ্তার আটক দোয়ারাবাজারে পশু জবাই প্রশিক্ষণ, চামড়া সংরক্ষণে বিশেষ নির্দেশনা চাঁপাইনবাবগঞ্জে এমপি মিজানের সঙ্গে সার ডিলারদের মতবিনিময় সভা গাইবান্ধায় ভিজিএফ চাল আটক, পরে রশিদ তৈরির অভিযোগ উঠেছে ঈদ উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে ১৩ পশুর হাটের ইজারা সম্পন্ন করেছে প্রশাসন চট্টগ্রামে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা: ২৫১ সিমকার্ড ও ৮ সিমবক্স জব্দ

গাইবান্ধায় ভিজিএফ চাল আটক, পরে রশিদ তৈরির অভিযোগ উঠেছে

ফয়সাল রহমান জনি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।

গাইবান্ধার সদর উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের সরকারি ভিজিএফের চাল আটককে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৫ টন সরকারি চাল সাদুল্লাপুর উপজেলায় আটক হওয়ার পর থানায় নেওয়া হলেও পরে নাটকীয়ভাবে রশিদ তৈরি করে চালগুলো ফেরত দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেলে সাদুল্লাপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ রোড এলাকায় কয়েকটি ব্যাটারিচালিত অটোর মাধ্যমে চাল পরিবহন করা হচ্ছিল। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সন্দেহ হলে তারা চাল বহনকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে জানা যায়, এগুলো সরকারি ভিজিএফের চাল।

পরে বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলে সাদুল্লাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ জসীম উদ্দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি প্রায় ৫ টন চালসহ ৫টি ব্যাটারিচালিত অটো জব্দ করে সাদুল্লাপুর থানায় নিয়ে যান।

তবে রাতের দিকে ঘটনাটি নতুন মোড় নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে দীর্ঘ সময় ধরে কাগজপত্র প্রস্তুতের পর চালগুলো ফেরত দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, চাল আটক করার সময় বহনকারীদের কাছে কোনো বৈধ কাগজপত্র বা ক্রয়ের রশিদ ছিল না। পরে তড়িঘড়ি করে চাল ক্রয়ের রশিদ তৈরি করা হয়েছে বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ।

এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের প্রশ্ন, যদি চালগুলো বৈধভাবে কেনা হয়ে থাকে, তাহলে আটক করার সময় কোনো কাগজপত্র দেখানো হয়নি কেন? এছাড়া সরকারি ভিজিএফের চাল কীভাবে এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় নেওয়া হচ্ছিল এবং কার নির্দেশে তা পরিবহন করা হচ্ছিল—এসব বিষয় নিয়েও আলোচনা চলছে।

স্থানীয়দের আরও দাবি, থানায় নেওয়ার পর চালগুলো জামালপুর ইউনিয়নের তরফবাজি এলাকার জহুরুলের অটো রাইস মিলে নেওয়া হয়। সেখানে ইউসুফ নামের এক চাল ব্যবসায়ীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সরকারি খাদ্য সহায়তার চাল নিয়ে এমন ঘটনায় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। একই সঙ্গে অনিয়ম বা চাল পাচারের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে গাইবান্ধায় ভিজিএফের চাল আটক ঘটনা নিয়ে রহস্য আরও গভীর হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক সম্পর্কিত তথ্য
আপডেটের সময় : ০১:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
১৮ সময় দৃশ্য

গাইবান্ধায় ভিজিএফ চাল আটক, পরে রশিদ তৈরির অভিযোগ উঠেছে

আপডেটের সময় : ০১:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

ফয়সাল রহমান জনি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।

গাইবান্ধার সদর উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের সরকারি ভিজিএফের চাল আটককে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৫ টন সরকারি চাল সাদুল্লাপুর উপজেলায় আটক হওয়ার পর থানায় নেওয়া হলেও পরে নাটকীয়ভাবে রশিদ তৈরি করে চালগুলো ফেরত দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেলে সাদুল্লাপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ রোড এলাকায় কয়েকটি ব্যাটারিচালিত অটোর মাধ্যমে চাল পরিবহন করা হচ্ছিল। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সন্দেহ হলে তারা চাল বহনকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে জানা যায়, এগুলো সরকারি ভিজিএফের চাল।

পরে বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলে সাদুল্লাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ জসীম উদ্দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি প্রায় ৫ টন চালসহ ৫টি ব্যাটারিচালিত অটো জব্দ করে সাদুল্লাপুর থানায় নিয়ে যান।

তবে রাতের দিকে ঘটনাটি নতুন মোড় নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে দীর্ঘ সময় ধরে কাগজপত্র প্রস্তুতের পর চালগুলো ফেরত দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, চাল আটক করার সময় বহনকারীদের কাছে কোনো বৈধ কাগজপত্র বা ক্রয়ের রশিদ ছিল না। পরে তড়িঘড়ি করে চাল ক্রয়ের রশিদ তৈরি করা হয়েছে বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ।

এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের প্রশ্ন, যদি চালগুলো বৈধভাবে কেনা হয়ে থাকে, তাহলে আটক করার সময় কোনো কাগজপত্র দেখানো হয়নি কেন? এছাড়া সরকারি ভিজিএফের চাল কীভাবে এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় নেওয়া হচ্ছিল এবং কার নির্দেশে তা পরিবহন করা হচ্ছিল—এসব বিষয় নিয়েও আলোচনা চলছে।

স্থানীয়দের আরও দাবি, থানায় নেওয়ার পর চালগুলো জামালপুর ইউনিয়নের তরফবাজি এলাকার জহুরুলের অটো রাইস মিলে নেওয়া হয়। সেখানে ইউসুফ নামের এক চাল ব্যবসায়ীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সরকারি খাদ্য সহায়তার চাল নিয়ে এমন ঘটনায় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। একই সঙ্গে অনিয়ম বা চাল পাচারের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে গাইবান্ধায় ভিজিএফের চাল আটক ঘটনা নিয়ে রহস্য আরও গভীর হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।