জয়পুরহাটে বিজিবির অভিযানে ৫৬ লাখ টাকার সিরাপ উদ্ধার

মাহবুব হোসেন মেজর, দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদক প্রতিরোধে আবারও বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। জয়পুরহাটে পরিচালিত বিশেষ যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ যৌন উত্তেজক সিরাপ ও মমোসা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে বিজিবি। উদ্ধারকৃত এসব অবৈধ পণ্যের আনুমানিক সিজার মূল্য প্রায় ৫৬ লাখ ৯০০ টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি দীর্ঘদিন ধরেই গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জয়পুরহাট জেলার সদর উপজেলা এবং কালাই উপজেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে অবৈধভাবে যৌন উত্তেজক সিরাপ ও মমোসা ট্যাবলেট মজুদ করে সীমান্ত পথে ভারতে পাচারের প্রস্তুতি চলছিল।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৮ মে ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ২টা থেকে ২টা ৩৯ মিনিট পর্যন্ত জয়পুরহাট ২০ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ লতিফুল বারীর দিকনির্দেশনায় একটি বিশেষ টহল দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন টহল কমান্ডার নায়েব সুবেদার মোঃ মহসিন বয়ান।
বিজিবির বিশেষ টহল দল জয়পুরহাট সদর উপজেলার এস এ পরিবহন কুরিয়ার সার্ভিস এবং কালাই উপজেলার করতোয়া কুরিয়ার সার্ভিসের গোডাউনে পৃথকভাবে অভিযান চালায়। এ সময় র্যাব-৫ এর সিপিসি-৩ এর সদস্যরাও অভিযানে অংশ নেন। যৌথভাবে পরিচালিত এ অভিযানে স্থানীয় বাজার কমিটির সদস্য, কুরিয়ার সার্ভিসের ম্যানেজার ও পার্সেল সহকারীদের উপস্থিতিতে গোডাউনগুলোতে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিকালে বিজিবি সদস্যরা বিপুল পরিমাণ অবৈধ পণ্য উদ্ধার করতে সক্ষম হন। উদ্ধার হওয়া পণ্যের মধ্যে রয়েছে ১৮ হাজার ৫৮২ বোতল অবৈধ যৌন উত্তেজক সিরাপ এবং ৫৯০ পিস মমোসা ট্যাবলেট। এসব পণ্য সীমান্ত পথে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচারের উদ্দেশ্যে মজুদ করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত এলাকায় মাদক, চোরাচালান, মানবপাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে বাহিনীটি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। বিশেষ করে যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া মাদক ও ক্ষতিকর উত্তেজক দ্রব্য প্রতিরোধে বিজিবি আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং চোরাচালানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় যেকোনো সন্দেহজনক কার্যক্রমের তথ্য দিয়ে বিজিবিকে সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধ যৌন উত্তেজক সিরাপ ও নকল ওষুধ জাতীয় পণ্যের ব্যবহার তরুণ সমাজের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এসব পণ্যের অবাধ বিস্তার রোধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতাও জরুরি।
জয়পুরহাট বিজিবির এই সফল অভিযান সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানবিরোধী কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা ও সামাজিক শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।








